Mathematician Azizur Rahman Khalifa

গনিতবিদ আজিজুর রহমান খলিফা
Mathematician Azizur Rahman Khalifa

যদি তোমাকে তিনটি প্রশ্ন করা হয়, এক. গণিত কী? দুই. তোমার কাছে কোন বিষয়টি সবচেয়ে কঠিন মনে হয়? তিন. তোমার দেখা বা জানা একজন গণিতবিদের জীবন সম্পর্কে বলো? তাহলে তুমি কী করবে?

জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখো। গণিত ছাড়া কী আমরা একটি দিন চলতে পারব? কী মনে হয়, তোমার? উত্তর হবে অবশ্যই “না”। তুমি যখন রাতে ঘুমাতে যাচ্ছো; তখন মাকে বলে দিচ্ছ, মা আমাকে আগামীকাল সকাল ৬ টায় ডেকে দিও। অথবা নিজে থেকেই মোবাইল ফোনে সকাল ছয়টায় এলার্ম দিয়ে রাখছ, তাই না? তাহলে এই ছয় কে তুমি কী বলবে? আমরা যখন অসুস্থ্য হয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার ওষুধ দিয়ে বলে দেন একটি বা দুটি করে ট্যাবলেট খাবেন। এখানে ডাক্তার সাহেব কিসের আশ্রয় নিলেন? আমরা যখন কোন সূত্র দিই-এটিকে সূত্র বলা যাবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা না যায়। আমরা যা কিছুই করি না কেন, তা আমাদের গাণিতিক ভাবেই দেখাতে হয়। মনে কর, তুমি অনেক ভালো শিক্ষার্থী তা যে ক্লাসেরই হোক না কেন? কিন্ত কতটুকু ভালো তা অন্য বন্ধুর সাথে তুলনা করলে তখন গণিতের আশ্রয় নিতে হবে। গণিতই সত্য, গণিতই শাশ্বত। গণিত কিছুই না, শুধু বুদ্ধি ও যুক্তির খেলা। বিজ্ঞান শিশু আর গণিত তার মাতা। আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে সাহিত্য, ইংরাজি সাহিত্য, গণিত, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জোতিষশাস্ত্রসহ নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন দরকার হয়। এরমধ্যে যে কোন একটি বিষয় আমাদের কঠিন মনে হয়। অবাক করা বিষয় হলো, আমার কাছে ইংরাজি খুব কঠিন মনে হলেও অনেকের খুব পছন্দের বিষয় ইংরাজি। আবার অনেকের পছন্দের বিষয় গণিত। কী, তাই না? তোমরা কী আজিজুর রহমান খলিফা Azizur Rahman Khalifa স্যারের নাম শুনেছ? কেউ হয়ত শুনেছ আবার কেউ হয়ত নয়।

উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণির গণিতের জ্যামিতি অংশে এ আর খলিফা”স থিয়োরেম AR Khalifa’s Theorem নামে যে উপপাদ্য পড়ানো হয়, ইনিই সেই আজিজুর রহমান খলিফা Azizur Rahman Khalifa।গুগোল বা অনলাইন ঘাটাঘাটি করে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। গুগল জানিয়েছে, আজিজুর রহমান খলিফা Azizur Rahman Khalifa নদীয়া জেলার শান্তিপুর গ্রামে ১৯০৪ সালে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আবার একটি তথ্যে পাওয়া গেলো, তিনি কুষ্টিয়া জেলার Kushtia District ভেড়ামারা উপজেলার Bheramara Upzilla প্রফেসর পাড়ায় ১৯০৪ সালে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি খলিফা স্যার Khalifa sir হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি পশ্চিম বঙ্গের শিকারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯২৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স ) ১৯২৭ সালে এম এ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তিনি বিএ ও এম এ উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি মাস্টার্স পাশ করার আগেই অর্থাৎ ১৯২৬ সালে তৎকালীন বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন; যথারীতি প্রথম স্থান অধিকার করে রাজশাহী মহকুমায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে চাকুরী শুরু করেন। টানা ১৬ বছর চাকুরির পর ১৯৪২ সালে অবসর নেন। তখন তিনি নিজ এলাকা ভেড়ামারায় এসে ভেড়ামারা হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। এই বিষয়ে ভেড়ামারা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আব্দুল গফুর সরকার জানালেন, ভেড়ামারা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশেই এক ভদ্র লোক কামাল হাজী কিছু তথ্য দিতে পারবেন। কামাল হাজী সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি আজিজুর রহমান খলিফা স্যারের ছাত্র ছিলেন। আজিজুর রহমান খলিফা Azizur Rahman Khalifa ভেড়ামারা কলেজের পূর্ব পাশে বর্তমান টেলফোন অফিসের উত্তর-পূর্বপাশে বসবাস করতেন। তিনি জানালেন, তাঁর প্রকৃত নিবাস কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় হবে। তবে কোন গ্রাম তা নিশ্চিত নয়। ভেড়ামারা মডেল হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মু. আনোয়ার-উল-আজিম স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মজার কিছু তথ্য দিলেন। স্যার জানালেন, আমার তখন ভেড়ামারা হাই স্কুলে শিক্ষকতার দুই বছর, সালটা ১৯৬৭ । তিনি ভেড়ামারা হাইস্কুলের তখনকার প্রধান শিক্ষক রুহুল ইসলাম স্যারের আমন্ত্রণে স্কুলে এসেছিলেন। সব ক্লাসের শিক্ষার্থী একটি রুমে নিয়ে তিনি অনেক সময় ধরে গণিতের বিভিন্ন মজার মজার খেলা দেখাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরা খুব আগ্রহ নিয়ে দেখছিল। আরো তথ্যের জন্য কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত মনোয়ারা আজমত আলী কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম স্যারের সাথে কথা প্রসঙ্গে আজিজুর রহমান খলিফা স্যারের কথা তুললাম। তিনি পরামর্শ দিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ইয়ার আলী স্যারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে স্যার পরামর্শ দিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আব্দুল ওদুদু স্যারের সাথে যোগাযোগ করতে। ওদুদ স্যারের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম ওদুদ স্যারের ভাই প্রফেসর আব্দুস সালাম Professor Abdus Salam স্যার যিনি মিরপুরের আমলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। প্রফেসর আব্দুস সালাম Professor Abdus salam স্যার ও আজিজুর রহমান খলিফা Professor Azizur Rahman Khalifa স্যার কোন একটি কলেজে একসাথে শিক্ষকতা করেছেন। আমাদের আগ্রহের পারদ তুঙ্গে উঠে গেলো। ওদুদ স্যারের সাথে যোগাযোগ অনেক রাতে হলো তাই আজ আর যাওয়া সম্ভব হলো না। আমরা ঘুরছিলাম তথ্যের জন্য কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন অলিগলি।

জামিরুল ইসলাম স্যারকে নিয়ে পরের দিন সন্ধ্যায় রওনা দিলাম কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের সামনের গলি প্রফেসর আব্দুস সালাম স্যারের বাসায়। স্যারকে পেলাম, খুব মজার মজার তথ্যও পেলাম। প্রফেসর আব্দুস সালাম স্যার ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বর্তমান আমলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। কলেজটি সরকারি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রফেসর আব্দুস সালাম স্যার অধ্যক্ষ ছিলেন। স্যারের হাত দিয়েই কলেজ সরকারিকরণের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়।

Professor Abdus Salam (Right Side) Ex-Principal Amla Govt College, Mirpur, Kushtia.
Professor Abdus Salam (Right Side) Ex-Principal Amla Govt College, Mirpur, Kushtia.

প্রফেসর আব্দুস সালাম স্যার জানালেন তখন ১৯৫৮ সাল, তিনি কুষ্টিয়া মুসলিম হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ঐ বছর আজিজুর রহমান খলিফা স্যার আমাদের স্কুলে এসেছিলেন। তিনি (আজিজুর রহমান খলিফা) Azizur Rahman Khalifa দিনভর গণিত ক্লাস নিলেন। মজার ব্যাপার হলো, স্যার যত আলোচনা করছিলেন আমরা তত গণিতের অমৃত আস্বাদন করছিলাম। আমরা ক্লান্ত হচ্ছিলাম না, আমাদের গণিত তৃষ্ণা আরো বেড়ে যাচ্ছিলো। তিনি খুব মৃদুভাষী ছিলেন। তাঁর কথার অসাধারণ সম্মোহনী ক্ষমতা ছিল। তিনি একটি বিষয় খুব গুরুত্বের সাথে বলছিলেন তা হলো, আমরা যখন গণনা শিখি-তখন আমাদের সকল শব্দই আলাদা আলাদাভাবে মনে রাখতে হয়। যেমন একুশ, বাইশ, একান্ন, বায়ান্ন ইত্যাদি। আবার আমাদের বাচ্চাদের উনপঞ্চাশ লিখতে বললে ৫৯ লিখে। কারণ উনপঞ্চাশ উচ্চারণ করতে গেলে পঞ্চাশ শব্দটিও আসে, তাই বাচ্চারা ভুল করে ৫-এর ঘরে চলে যায়। কিন্ত ইংরেজিতে এমন নয়।

যে বাচ্চাটি প্রথম গণনা শেখে সে বিশকে টুয়েন্টি বলে, একুশকে বলে টুয়েন্টি ওয়ান, আবার বাইশকে বলে টুয়েন্টি টু। তেমনি উনপঞ্চাশকে বলে ফোরটি নাইন। যার ফলে বাংলা সংখ্যা গণনায় যত বেশী আলাদা শব্দ মনে রাখতে হয় ইংরেজি গণনায় তা নয়। বরং ইংরেজি গণনা কোন চাপ ছাড়াই শিশুরা মনে রাখতে পারে। তিনি চাচ্ছিলেন আমাদের বাচ্চারা একুশ না বলে বিশ এক বলবে, বাইশ না বলে বিশ দুই বলবে। এই সংখ্যা পদ্ধতি ইংরেজির ন্যায় চালু করার জন্য তিনি সরকারের বিভিন্ন মহলে তদবির শুরু করেন। সর্বশেষ স্তরে সরকারের পক্ষ থেকে ভাষাবিদ ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে বলা হলে, তিনি যোগাযোগ করেন। কিন্ত এই নতুন নিয়মে ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ তিনি রাজী হন নি। Azizur Rahman Khalifa আজিজুর রহমান খলিফা সম্পর্কে পরবর্তী অংশের জন্য ক্লিক করুন

Share to future view

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *