RUET Admission Guideline | Eduport

Engineering Admission
Engineering Admission Success story

Studying Engineering is like a dream for many students. I would like to share with you the story of my Engineering Admission. You may not like my engineering admission story. Let’s share the RUET Admissions story.

সবার মত খুব ছোটোবেলা থেকে আমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার শখ ছিল না। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে যখন বগুড়ায় কলেজে ভর্তি হই তখন প্রথম সিদ্ধান্ত নিই যে, আমি ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং Engineering University তে পড়বো।

কিন্তু পড়তে চাইলেই তো হবে না। এর জন্য প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিতে সুযোগ পেতে হবে তাই না? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার অনেক সুযোগ থাকলেও সরকারি ভাবে পড়তে চাইলে ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে ৬০০০ এর মত সিট আছে ।

সেখানে এই অল্প সিটের বিপরীতে চেষ্টা করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। আসলে এইচএইচসি -এর পর সবাইকে যে কঠিন এক পরিক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, সেটা সম্পর্কে আমার আগে কোনো ধারণা ছিল না।

 কলেজে পড়াকালীন  সময়েই আমি এই কম্পিটিশন সম্পর্কে জানতে পারি।  তাই প্রথম থেকেই আমার প্রস্তুতি ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরিক্ষার জন্য। নতুন শহরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় আমি সব বিষয়েই নিয়মিত ক্লাস করতাম। এর বাইরে দুই একটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়াও শুরু করি।

ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ায় আমাকে সবসময় চাপের মধ্যে থাকতে হতো। কিভাবে যে ইন্টারের সময় চলে গেল্ বুঝতেই পারিনি। এইচএসসি পরিক্ষা দিয়েই আমি ঢাকা চলে যাই কোচিং করার জন্য। শুরু হয় এক নতুন যুদ্ধ।

এর কিছুদিন পর এইচএসসি এর রেজাল্ট দেয় । আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমার রেজাল্ট ভালো হয়েছিল। মোটামুটি ভাবে সিউর ছিলাম সব জায়গাতে পরিক্ষা দিতে পারবো। কারণ বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট ইন্টারের ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ও গণিতের নাম্বারের ওপর ভিত্তি করে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকেই পরিক্ষা দিতে দেয়। আমার প্রথম ভর্তি পরিক্ষা ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষা । এরপর আমি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষা দেই। চরম সত্যি কথা হলো, কোনোটাতেই আশানুরূপ ফল করতে পারিনি।

Engineering Admission

তবে সিউর ছিলাম ভর্তি হতে পারবো। কেননা নিজের উপর একটি আস্থা ছিলো। এরপর ছিল বুয়েটের পরিক্ষা। আমার মত যারা ইঞ্জিনিয়ারিং Engineering পড়তে চায় তাদের সবার প্রথম পছন্দ বুয়েট BUET। পরিক্ষা খুব খারাপ না হলেও রেজাল্টের সময় জানতে পারি, আমি চান্স পাইনি। তখন বাসার সবাই আমাকে ভেঙে না পড়ে অন্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চেষ্টা করতে বলে। BUET বুয়েটের রেজাল্টের কয়েকদিন পরেই ছিল রুয়েটের পরিক্ষা। তাই আম্মুর সাথে চলে যাই রাজশাহীতে পরিক্ষা দেওয়ার জন্য। রুয়েটের জন্য পরিক্ষা দিয়ে বের হয়ে আসার পর আম্মু যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, পরিক্ষা কেমন হয়েছে? আমি বলেছিলাম, পরিক্ষা ভাল হইনি। তবে প্রশ্ন কঠিন হয়েছে দেখা যাক কী হয়।

পরের দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিক্ষা দিয়ে চলে আসি বাড়িতে। এর কিছুদিন পরেই ছিল কুয়েটের পরিক্ষা। আম্মুর সাথে ছুটে যায় খুলনাতে কুয়েটে পরিক্ষা দেওয়ার জন্য। পরিক্ষা দিয়ে ফেরার সময় ট্রেনে সবাই বলাবলি করছিল যে, আজ রুয়েটের রেজাল্ট দিবে। বাড়ি পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারি, রেজাল্ট হয়েছে। পরে যখন নিজের রোল নাম্বার লিস্টে দেখেছিলাম, আমি খুব খুব খুশি হয়েছিলাম। আমার সাথে সাথে আমার পরিবারের সবাই ও অনেক খুশি হয়েছিল। আর নিশ্চয়, তোমরা বুঝতে পারছো, এই অনুভূতি কাউকে বলে বা লিখে বোঝানোর মত নয়।

আর এভাবেই শেষ হয়, আমার এডমিশন জার্নি। বর্তমানে আমি রুয়েটে সিএসই বিভাগে ২য় বর্ষে অধ্যয়ন করছি।

রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় RUET সম্পর্কে দুই একটি কথা না বললেই নয়।

সত্যি কথা হলো, রুয়েট সম্পর্কে বলতে বললে, আসলে বলে শেষ করা যাবে না। আমার মত ইঞ্জিনিয়ারিং Engineering পড়তে চাওয়া মানুষদের জন্য এ যে এক স্বপ্নের জায়গা। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে ছিনিয়ে নিতে হয় নিজের স্থান।

 রুয়েট বাংলাদেশের ২য় প্রাচীণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় Engineering University. অসংখ্য সারি সারি দেবদারু ঘেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ১৫২ একর। এর তিনটি ফ্যাকাল্টিতে মোট ১৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট আছে। তোমরা নিশ্চয়ই জানো, প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট এর জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক উন্নতমানের অত্যাধুনিক ল্যাব।

বর্তমানে প্রতি বছর ১২৩৫ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তিহয়। রুয়েটে শুধু ইঞ্জিনিয়ারিংই পড়ানো হয়, এমন নয়। অনেকেই মনে করে ইঞ্জিনিয়ার মানে কাঠ খোট্টা টাইপের মানুষ। এঁরা শুধু ইট, কাঠ, পাথর নিয়ে কাজ করে। বিষয়টি এমন নয়। এখানে এক্সট্রা কো-কারিকুলাম অ্যাকটিভিটির অনেক সুযোগ রয়েছে। যেমনঃ ডিবেট, ফটোগ্রাফি, বিতার্কিক এমন হাজারো প্লাটফর্ম। এখানে রয়েছে ২৫ টিরও বেশি ক্লাব যেখানে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলামে অংশগ্রহণ করে এবং নিজেদের স্কিল ডেভেলপ করে। নিজেদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় করানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সও সংঘটিত হয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা এখন দেশে বিদেশে নিজেদের সাফল্যের ছাপ রাখছে।

এছাড়া এখানে অন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত নিজস্ব হল ও ট্রান্সপোর্ট সুবিধা রয়েছে। আমার মত তোমাদেরও যদি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে রুয়েট অবশ্যই তোমাদের জন্য ভালো অপশন। তবে একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, তুমি যদি তোমার স্বপ্নকে ছুঁতে চাও, তোমাকে ভীষণ পরিশ্রম করতে হবে। আর হ্যাঁ আরেকটি কথা বলব, গণিতের ম্যাথের সমাধান, ফিজিক্সের ম্যাথ, কেমিস্ট্রির বেসিক বিষয়গুলো চোখের সামনে যেন থাকে। তাছাড়া সব অন্ধকার লাগবে। তোমাদের জন্য শুভ কামনা রইল।

নিভেল, ২য় বর্ষ, সিএসই, রুয়েট ।

মেডিকেল ভর্তির গল্প শুনতে এখানে ক্লিক করুন

Share to future view

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *