ডাক্তার হব গণিত পড়ব না

Medical admission
ডাক্তার ও গণিত

ডাক্তার ও গণিত। অনেক শিক্ষার্থীই উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তির সময় বিপাকে পড়ে যায়। উচ্চতর গণিত বিষয়ের তালিকায় থাকবে কী থাকবে না। তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। অনেকেই মনে করে ডাক্তার হতে গেলে গণিত না পড়লেও চলবে। করণীয় কী? চলুন দেখি আলোচনা কী বলে?

আমি ডাক্তার হতে চাই !!! গণিত পড়ব না। কেমন হবে?

মাধ্যমিক পাশ করার পর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের এই প্রশ্নটি থেকে যায়। মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেছি। উচ্চ মাধ্যমিকেও বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে চাই। আমার জীবনের লক্ষ্য হলো ডাক্তার হওয়া। আমি কী গণিত ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে পারবো না? তোমরা নিশ্চয় জানো, মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টে গণিত থেকে কোন প্রশ্ন করা হয় না। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন থেকে তো হয়ই। এর বাইরে জীববিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন হয়, তাহলে আমাকে কেন গণিতের বাড়তি ঝামেলা সহ্য করতে হবে? আবার অনেক শিক্ষার্থী মনে করে, উচ্চ মাধ্যমিকে গণিতের পরিবর্তে জীব বিজ্ঞান প্রধান বিষয় অর্থ্যাৎ মেইন সাবজেক্ট করলেই সুবিধা। প্রকৃত পক্ষে বিষয়টি কী? প্রিয় শিক্ষার্থী, তুমি অনেক সৌভাগ্যবান। কেন জানো? এই জন্য যে, তুমি দুই বছর বা তার বেশী সময় আগেই তোমার জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে পেরেছো। তোমাকে অভিনন্দন। তোমার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা। তুমি নিশ্চয়ই ভালো করবে।

আমাদের মূল প্রশ্ন ছিলো গণিত নিয়ে। তুমি কী জানো, গণিত কী? আমি মনে করি, গণিত এমন একটি বিষয়, যা সংখ্যা নিয়ে বা অংক নিয়ে আলোচনা করে। এখন তুমি আমাকে বলো, অংক ছাড়া বা সংখ্যা ছাড়া কী তুমি একটি দিন পার করতে পারবে? তুমি হয়ত, ঝোঁকের বসেই বলে দিচ্ছো, হ্যাঁ পারবো। এই উত্তরটি দেয়ার আগে আমি বলব, তুমি একটু চোখ বন্ধ করে চিন্তা করো। তারপর তোমার উত্তর বলো।

তার আগে ভাবো, আমি একদিন অংকের সাহায্য না নিলে ঐ দিন কি কি করতে পারব না। এই ধরো, তুমি প্রতিদিনই সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে ওঠো। তাহলে ছয় এর সাহায্য নিতে পারছো না। ঘড়ির সাহায্য নিতে পারছো না। কেননা, ঘড়িতে সংখ্যা লেখা আছে। যাই হোক, কোন না কোন ভাবে ঘুম থেকে উঠে পড়েছো, তোমার মা তোমাকে সকালের নাস্তার মেন্যুতে দুইটি রুটিসহ তরকারী দিয়ে বলল: দুইটি রুটি দিয়েছি। সবগুলোই খেয়ে নিবি। তুমি বললে ইশরে!!! আজ আমার খাওয়া শেষ। কেননা, মা তোমাকে দুটি রুটি দিয়েছে। আর এই দুই হলো, অংক। সব মাটি হয়ে গেলো, তাই না?

তুমি ভাবলে, এবার তোমার কোন বন্ধুকে ফোন করা দরকার। ভাবনা অনুযায়ী তুমি ফোন হাতে তুলে নিলে। ডায়াল প্যাডে জিরো, ওয়ান লিখতে যেয়ে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল, হায়রে ! এগুলো তো অংক !! এখন উপায় !!! তুমি এবার চিন্তা করলে সকালে যেহেতু নাস্তা করা হয় নি, তাই দুপুর একটার মধ্যেই খাবার খাবে। যেই ভাবা, আবার সেই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়া। যাহ, এক তো অংক।

এবার ঠিক করলে অংক বা সংখ্যা নিয়ে আর ভাববো না। বরং ভাবি, ডাক্তার হলে কী করব?

তুমি এখন অনেক বড় ডাক্তার। ডাক্তারীতে অনেক নাম ডাক তোমার। সারা দেশেই তোমাকে এক নামে চেনে। তুমি খুব সুন্দর একটি গাড়ি করে হাসপাতালে যাও। আবার তোমার একটি অফিস আছে। তা খুব ছিমছাম করে সাজানো। তোমার সামনে একজন রোগী বসে আছে। তুমি রোগীকে জিজ্ঞাসা করলে, আপনার কী সমস্যা? রোগী বলল, আমার শরীর খারাপ। তুমি মুখ ফসকে বলে ফেললে কয়দিন ধরে? রোগীও মুখ ফসকে উত্তর দিলো তিন দিন। তুমি ঠোঁটে কামড় খেলে। তিন তো অংক!!! এবার রোগীর রক্তচাপ মাপলে। রোগী জানতে চাইলো, আমার রক্তের চাপ কত? তুমি কিছুতেই বলতে চাইছো না!!! কেননা যা বলবে, তা অংক দিয়েই বলতে হবে। এখন কী হবে?

এখন বলো, গণিত ছাড়া কী আমরা একটি দিন পার করতে পারবো? তুমিই বলো, ডাক্তারী বিদ্যায় কী গণিতের প্রয়োজন আছে?

এবার আসি, বাস্তব অভিজ্ঞতায়। বিশ্বাস করো আর নাইবা করো, আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। যে শিক্ষার্থী ডাক্তারী বিদ্যায় ভর্তি হয়, আমি তার মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছি। এক. এই শিক্ষার্থী দিনের পড়া দিনেই শেষ করে, এতে তার রাত জাগার প্রয়োজন হলে সে জেগেই পড়া তৈরি করে। দুই. সে খুব আগ্রহ নিয়ে গণিত চর্চা করে। একটি বিষয় খেয়াল করো, আমি এখানে বলিনি- সে অংক ভালো পড়ে। গণিত পড়ার বিষয় নয়। এটি চর্চা করার বিষয়।

তোমাদের বলেছিলাম, অভিজ্ঞতার কথা বলব। তোমরা জানো কি না, জানি না। পদার্থবিজ্ঞানে ৫০ মার্কের সৃজনশীল প্রশ্নের নম্বর বিভাজন খেয়াল করেছো? ক ও খ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লিখে বলতে হয়। বলতে চাচ্ছি, গৎবাঁধা কিছু লিখতে হয়। সংগা বা ব্যাখ্যা। আর গ ও ঘ অর্থ্যাৎ ৩ ও ৪ নম্বরের প্রশ্ন মোট ৫ টি লিখতে হয় । এই ৩৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর গাণিতিক সমাধান করে লিখতে হয়। তাহলে অবস্থা কী দাঁড়ালো? এখন উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞানে ক্যালকুলাসের প্রাথমিক ধারনার প্রয়োগও আছে। সমাকলন ও ব্যবকলন করতে হয় অনেক চ্যাপ্টারে। তাহলে গণিত চর্চা না করলে, কীভাবে ক্যালকুলাস সমস্যা সমাধান করবে? আবার রসায়নেও রয়েছে, গাণিতিক হিসাব নিকাশ। রসায়নে আরো সুন্দর করে মোলের সূক্ষ্মভাবে হিসাব নিকাশ করতে হয়। জীববিজ্ঞানেও কিন্ত মাইট্রোকন্ড্রিয়ার কোষ গণনা থেকে শুরু করে গ্লুকোজে এমন আরো বিভিন্ন জায়গায় এটিপি আরো কি কি হিজিবিজি হিসাব নিকাশ করতে হয়।

এখন তুমি কী ভাবছো? আমি তোমাকে একটি কথা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই। আর তা হলো, তোমার অসাধ্য কিছুই নাই। তা গণিত হোক আর ফিজিক্স হোক। তুমি সিরিয়াসলি নিলে পারবে না। তা আগে হয় নি। এখনো অসম্ভব হবে না। তাছাড়া সাইন্স পড়ে আর গণিত না পড়ে জীবনের পথকে কেন সরু করতে চাও? সাইন্স পড়ে গণিত না পড়া আর উত্তাল নদীর গতিপ্রবাহ বন্ধের জন্য বাঁধ দেয়া একই কথা।

আর একটি বড় প্রশ্ন তা হল, মাধ্যমিকে উচ্চতর গণিত ছিলো না, আমি কী উচ্চ মাধ্যমিকে উচ্চতর গণিত পড়তে পারবো? এই প্রশ্ন করা আর না করা একই কথা। কারণ মাধ্যমিকের গণিতের সাথে উচ্চ মাধ্যমিকের উচ্চতর গণিতের কোন মিল নেই। তাছাড়া তোমার গণিত শাস্ত্র তো ছিলোই কম্পলসারি সাবজেক্ট হিসেবে। তবে হ্যাঁ, মাধ্যমিকে যার উচ্চতর গণিত ছিলো, সে একটু বেশী অ্যাডভান্টেজ পেতে পারে। তাও খুব বেশী নয়। সব কথার এক কথা হলো, তুমি ডাক্তার হতে চাও আর ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও অথবা ফিজিক্স নিয়ে পড়তে চাও। তোমাকে প্রতিদিন দুই ঘন্টা গণিত চর্চা করতে হবে। এটি যদি অসম্ভব হতো, তাহলে বিজ্ঞান নিয়ে কেউ পড়ত না। তাই না? আমি জানি তুমি পারবে।

এখন সিধান্ত তোমার। আর হ্যাঁ, তুমি কী সিদ্ধান্ত নিলে তা কমেন্টে জানাও। সেই সাথে তোমার স্কুল বা কলেজের নাম লিখতে ভুলোনা।    

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনামিকার সফলতার গল্প

Share to future view

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *